আকাশের নক্ষত্রের মতো যে জীবন

আজ থেকে ১,৩৯৫ বছর ৭ মাস ২০ দিন আগে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম ধর্মযুদ্ধ। সে যুদ্ধের একটি ঘটনা শোনাই আপনাদের।


যুদ্ধের সময় সাহাবি জুবায়ের ইবনে আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী। বেহেশতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সৌভাগ্যবানের একজন তিনি। সম্পর্কে রাসুলের ফুফাতো ভাই, ইসলাম গ্রহণ করেছেন নবুওয়াতের একেবারে শুরুর দিকে। রাসুলের সঙ্গে তার সম্পর্ক এতটাই দৃঢ় যে রাসুল প্রায়ই বলতেন, জুবায়ের আমার ছায়াসঙ্গী। বদর যুদ্ধে রাসুলকে রক্ষা করতে সীসাঢালা প্রাচীরের মতো শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছিলেন তিনি।


কুরাইশ বাহিনীর উবায়দা ইবনে সাঈদ ময়দানে এসেছে আপাদমস্তক বর্মাচ্ছাদিত হয়ে। পুরো শরীর লোহার বর্ম দিয়ে ঢাকা, এমনকি মাথার শিরস্ত্রানে ঢেকে রেখেছে নাক-মুখ সব। শুধু তার চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে দূর থেকে। তরবারী বা বর্শার আঘাতে কেউ তাকে কিছুই করতে পারছিল না।


উবায়দা জুবায়েরকে দেখে হুংকার ছেড়ে বলল, ‘আমি আবু জাতুল কুরশ! যদি সাহস থাকে তাহলে আমার মোকাবেলা করতে আসো।’


উবায়দার হুংকার শুনে জুবায়ের নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারলেন না। নিজের বর্শা তুলে লক্ষ্যস্থির করলেন উবায়দার ঠিক চোখ বরাবর। নিশানায় ভুল হলো না। জুবায়েরের ছোড়া বর্শা সরাসরি গিয়ে আঘাত করল উবায়দার চোখে। এত জোরে তিনি বর্শা চালিয়েছিলেন যে বর্শার ফলা চোখ ভেদ করে মাথার অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে পড়ে তড়পাতে তড়পাতে মৃত্যু হয় উবায়দার।


তার লাশের উপর বসে অতি কষ্টে বর্শাটি বের আনেন জুবায়ের। বর্শা এত গভীরভাবে বিদ্ধ হয়েছিল, টেনে বের করার সময় সেটির ফলা বাঁকা হয়ে যায়। স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বর্শাটি জুবায়েরের কাছ থেকে চেয়ে নিজের কাছে রেখে দেন।


ঘটনা এখানেই শেষ করলাম। এবার ঘটনার দিকে আরেকবার লক্ষ করুন। দেখুন, ঘটনার বর্ণনা কত নিখুঁতভাবে বর্ণিত হয়েছে—কুরাইশযোদ্ধা উবায়দার বর্ম ও শিরস্ত্রানের বর্ণনা, জুবায়েরের বর্শার নিশানা, বর্শায় গাঁথা উবায়দার চোখ, তার মৃত্যু এবং আঘাতের ফলে বর্শার ফলা বাঁকা হয়ে যাওয়া। প্রতিটি বর্ণনা হাদিস এবং সিরাতগ্রন্থে নিপুণভাবে বর্ণিত হয়েছে।


শুধু এ ঘটনাই নয়, ইসলামের প্রতিটি যুদ্ধে কার অস্ত্রের আঘাতে কে আহত বা নিহত হয়েছে, শরীরের কোন স্থানে আঘাত করা হয়েছে, আঘাতের গভীরতা ও পরিমাপ কতটুকু ছিল—এসব কিছু আমরা হাদিস বা সিরাত পড়তে গেলে বিস্তারিতভাবে পড়তে পারি। কীভাবে এটা সম্ভব হলো?


শিক্ষা। সেই তখন থেকে ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব এতটাই ছিল যে, প্রত্যেকটা যুদ্ধের ঘটনা সাহাবিরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্মরণ রাখতেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা বর্ণনা করতেন। সাহাবিদের স্মৃতিশক্তির তারিফ না করে উপায় নেই। বিশেষত যেসব সাহাবি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমন আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, ইবনে মাসউদ, আবু সাঈদ খুদরি, আয়েশা, আনাস ইবনে মালিক, জাবের ইবনে আবদুল্লাহ, আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহুম এবং অন্যান্য সাহাবিগণ নবুওয়াতের বিশেষ বিশেষ সকল ঘটনা তারা নিজ অন্তকরণে গচ্ছিত রাখতেন। যেসব ঘটনার সাক্ষী তারা ছিলেন না, সেসব ঘটনা তারা সেইসব সাহাবিদের কাছ থেকে শুনে মুখস্ত করে নিতেন যারা সেসব ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী ছিলেন। এমনকি তারা অনেক ঘটনা স্বয়ং রাসুলের কাছ থেকে জেনে নিতেন।


এর বড় উদাহরণ ছিলেন সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মদিনায় আসেন সপ্তম হিজরিতে। কিন্তু তিনি যেসব হাদিস বর্ণনা করেছেন সেগুলোর অনেক ঘটনা তার ইসলাম গ্রহণের আগে সংঘটিত হয়েছে। যেমন বদর যুদ্ধের কথাই ধরা যাক। এ যুদ্ধ সংক্রান্ত অনেক হাদিস তিনি বর্ণনা করেছেন। কীভাবে? হয়তো রাসুলের কাছে শুনেছেন নয়তো অন্য সাহাবিদের কাছে শুনেছেন।


কী কারণে আবু হুরায়রাসহ অন্য সাহাবিরা এগুলো মুখস্ত করতে গেলেন? কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তাদের এসব বিষয় জানা এবং শিক্ষা করার কথা বারবার তাগিদ দিয়েছেন। শুধু ঘটনা নয়, ইসলামের প্রতিটি বিধান তারা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। রাসুলের প্রণোদনায় এই ধারাবর্ণনা উম্মতের জন্য এক অনন্য মাইলফলক হয়ে রয়েছে।


আরও আশ্চর্যজনক বিষয় লক্ষ করুন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা যায়নি। কত বছর আগের ঘটনা এটা? মাত্র পঞ্চশ বছর আগের ঘটনা। অথচ এখনও আসল ও নকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে হররোজ আমাদের পেরেশান হতে হয়। কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে নয়—সেটা আজ পর্যন্ত নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।


কিন্তু বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা মুসলিম মুজাহিদদের সংখ্যা বলুন তো কত? ৩১৩ জন। এ তথ্য অধিকাংশ মুসলিমই জানে। প্রায় চৌদ্দ শ বছর আগে সংঘটিত একটা যুদ্ধে কতজন যোদ্ধা অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের নাম, তাদের গোত্রের নাম, তাদের বয়স, সেই যুদ্ধে আরোহণ করা উট ও ঘোড়ার সংখ্যা, যুদ্ধে উভয় দলের নিহতের সংখ্যা, কুরাইশবাহিনীর বন্দী হওয়া যোদ্ধাদের নাম ও গোত্রের নাম—এমন সকল কিছু ইসলামের ইতিহাসে লেখা রয়েছে।


রাসুল (সা.) নিজে নিরক্ষর ছিলেন, লিখতে পড়তে জানতেন না। কিন্তু সাহাবিদের শিক্ষার জন্য তিনি যেন আধুনিক যুগের মায়েদের মতো ছিলেন, যারা বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য হাতে সবসময় একটা বই নিয়ে ঘুরে বেড়ান। রাসুলের অবস্থাও ঠিক এমন ছিল। যেখানে সামান্য লেখাপড়ার সুযোগ হতো সেখানেই তিনি সাহাবিদের জন্য শিক্ষার দ্বার খুলে দিতেন।


বদরের যুদ্ধের পরবর্তী দৃশ্যের দিকে লক্ষ করুন। এ যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন যোদ্ধা বন্দী হয়। সকলের সঙ্গে পরামর্শ করে রাসুল সিদ্ধান্ত নেন, এ বন্দীদের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হবে। এক হাজার দিরহাম থেকে চার হাজার দিরহাম পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয় বন্দীদের মুক্তিপণের হার। যারা অবস্থাসম্পন্ন ছিল তাদের জন্য চার হাজার, আর যারা খানিকটা কম সম্পন্ন ছিল তাদের জন্য তিন, দুই বা এক হাজারে মুক্তির শর্ত নির্ধারণ করা হয়।


কিন্তু যেসব কুরাইশ বন্দী একেবারেই কপর্দকশূন্য গরিব ছিল, তাদের ব্যাপারে কী করা হবে? তারা তো অর্থ দিতে পারবে না। রাসুল শিক্ষার এই সুযোগও হাতছাড়া করলেন না। তিনি জানালেন, যারা মুক্তিপণের অর্থ দিতে পারবে না, তারা প্রত্যেকজন মদিনার দশজন করে বাচ্চাকে আরবি পড়া ও লেখা শেখাবে। যখন এসব বাচ্চা পড়তে ও লিখতে শিখে যাবে তখন তাদের মুক্তি দেয়া হবে।


রাসুল কেন শিক্ষার প্রতি এত গুরুত্ব দিয়েছিলেন? বস্তুত তিনি ভবিষ্যত মদিনাকে একটি শিক্ষিত ও সংগঠিত কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। মুসলিমদের তিনি এমন একটি জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন যারা আজকের ইতিহাস যেমন লিখতে পারবে, তেমনি লিখতে পারবে ভবিষ্যত পৃথিবীর ইতিহাসও।


রাসুল মদিনায় আগমনের পরই লক্ষ করেছিলেন, মদিনার ইহুদিরা ধন-সম্পদের প্রাচুর্যে বসবাস করছে। মদিনার নেতৃত্ব আউস-খাজরাজ গোত্রের হাতে থাকলেও সকল সিদ্ধান্তের জন্য ইহুদিদের ধর্না ধরে বসে থাকতে হতো। কারণ আউস-খাজরাজের লোকেরা তাদের কাছে দেনার দায়ে আবদ্ধ ছিল। সবচে বড় কথা, ইহুদিদের সকলেই ছিল শিক্ষিত। ঐশীগ্রন্থ তাওরাতের নির্দেশনায় তাদের সবাই শিক্ষাগ্রহণ করতো এবং মদিনায় তাদের একটি স্বতন্ত্র বিদ্যায়তনও ছিল। যেখানে ইহুদি প-িতরা শিক্ষা দিত তাদের সম্প্রদায়ের বাচ্চাদের। জ্ঞানে ও ধনে ইহুদিরা সবসময় বড়াই করতো মদিনাবাসীর ওপর। নেতৃত্বের মসনদ আউস-খাজরাজের দখলে থাকলেও শিক্ষা ও জ্ঞানের কারণে তারা তাদের গোনায় ধরতো না। এ বিষয়টি রাসুলের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে।


শিক্ষার জন্য রাসুলের এমন বেচাইনির আরেকটি উদাহরণ দেই। মদিনার জায়িদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। অথচ জায়িদের বয়স তখন বারো-তেরো বছর। ভাবা যায়! এই বয়সী একটা ছেলে কীভাবে রাসুলের সহকারী হলেন? ঘটনা হলো, মেধাবী জায়িদ রাসুল মদিনায় আসার আগেই মক্কা থেকে আগত ধর্মীয় শিক্ষক মুসআব ইবনে উমায়েরের কাছে কুরআনের অনেকখানি হেফজ করে নিয়েছিলেন। রাসুল যখন মদিনায় আগমন করেন তখন তাকে ডাকা হয় রাসুলের সামনে। তিনি যখন তার হেফজ করা কুরআন রাসুলকে শোনান তখন রাসুল আশ্চর্য হয়ে যান এবং তাকে সত্বর লেখাপড়া শেখানোর ব্যবস্থা করেন। অল্পদিনেই জায়িদ আরবি লিখতে ও পড়তে শিখে যান। এরপর রাসুলের কাছে যেসব চিঠি আসতো, জায়িদ সেগুলো রাসুলকে পড়ে শোনাতেন, আবার কাউকে চিঠি লিখতে হলেও জায়িদ লিখে দিতেন।


কিছুদিন পর আরবের বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে রাসুলের কাছে চিঠি আসা শুরু হয়। এসব চিঠি সাধারণত হিব্রু বা ল্যাটিন (ইবরানি ও সুরিয়ানি) ভাষায় লেখা হতো। মদিনার মুসলিমদের মধ্যে কেউ এ ভাষা লিখতে পড়তে জানতো না। অগত্যা রাসুলকে মদিনার ইহুদিদের শরণাপন্ন হতে হয়। তারা এসে রাসুলের চিঠি পড়ে দিতো এবং সেগুলোর উত্তর লিখে দিতো। কারণ মদিনার ইহুদি প-িতরাই কেবল এ দুটো ভাষার দখল রাখতো।


কিন্তু রাসুল মদিনার ইহুদিদের মোটেও বিশ্বাস করতেন না। একে তো তারা ছিল ধূর্ত প্রকৃতির, দ্বিতীয়ত মুসলিমদের সঙ্গে তাদের একটা আদর্শিক যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল রাসুল মদিনায় আগমনের পরপরই। যে কোনোভাবে তারা মুসলিমদের হেয় ও পরাজিত করার ইচ্ছা পোষণ করতো। এ কারণে আগত চিঠির মধ্যে কী লেখা আছে আর তারা কী পড়ছে, সে বিষয়ে রাসুলের সন্দেহ রয়েই যেতো। আবার চিঠি পাঠানোর সময় রাসুল যা বলছেন তারা তা ঠিকমতো অনুলিপি করছে কি-না, সেটাও সন্দেহাতীত নয়।


এ সমস্যা নিরসনে রাসুল একদিন জায়িদকে ডেকে বললেন, তুমি হিব্রু ভাষাটা শিখে ফেলো। বিদ্যোৎসাহী জায়িদ ইহুদি পণ্ডিতদের পাঠশালায় গিয়ে মাত্র পনেরো দিনে হিব্রু ভাষা লিখতে ও পড়তে শিখে ফেলেন। এর কিছুদিন পর রাসুলের নির্দেশে জায়িদ ল্যাটিন ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এরপর এ দু’ভাষায় চিঠি এলে তা পড়তে আর ইহুদি প-িতদের কাছে যেতে হতো না, জায়িদ নিজেই চিঠি পড়ে রাসুলকে শোনাতেন এবং উত্তর লিখে দিতেন।


বর্তমান মুসলিমদের অধঃপতনের সবচে দুঃখজনক কারণ—শিক্ষায় অবহেলা। আমরা সামান্য পড়ছি ঠিক, কিন্তু সেটাকে কর্মে পরিণত করছি না। আমরা ধর্ম সম্পর্কে জানছি ঠিক, কিন্তু সেটা বাস্তবায়নের সদিচ্ছা আমাদের নেই। বাস্তবভিত্তিক পড়াশোনার প্রতি আমাদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। আমাদের পাঠাগারগুলো খলি পড়ে থাকে, আমাদের ছাত্রাবাসগুলোতে উদ্ভাবনী কোনো শিক্ষা উপকরণ নেই, নতুন চিন্তা ও নতুন দিকদর্শনের ব্যাপারে আমাদের ভাবার সময় নেই, পৃথিবীকে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে তার কোনো প্রস্তুতি নেই। অথচ আমরা বক্তৃতা দেয়ার সময় বিশ্বজয়ের ভাষণ ছাড়ি। না, আল্লাহর রাসুল এবং তার সাহাবিরা কখনো বড় গলায় ভাষণ দিয়ে বাগাড়ম্বর করতেন না।


রাসুলের সিরাত এবং সাহাবিদের জীবনী আমাদের সবচে বড় সম্পদ। পৃথিবী যত আধুনিক হোক, উন্নতির যত শিখরে উঠুক সভ্যতা; রাসুলের সিরাত এবং সাহাবিদের জীবনী চিরকাল মুসলিমদের দিশা দিয়ে যাবে। এই দুই সম্পদকে সঠিকভাবে পাঠ করতে হবে, জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং এই পাঠ সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে। বর্তমান মুসলিম জাগরণের জন্য এছাড়া আমাদের আর কোনো দাওয়াই নেই।


আল্লাহর রাসুল বলে গেছেন—‘আমার সাহাবিরা আকাশের নক্ষত্রের মতো, যে তাদের অনুসরণ করবে, সঠিক পথের দিশা পাবে কেবল তারাই।’


১০০৬ বার পঠিত

লেখক পরিচিতি

সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর -এর পাঠাগ্রহ মূলত ইতিহাস। ইতিহাসের রাজপথ যেমন, তেমনি অসংখ্য গলি-ঘুঁপচি চষে বেড়াতে ভালোবাসেন। তুলে আনতে চেষ্টা করেন ইতিহাসের আড়ালে চাপা পড়ে যাওয়া অন্য অনেক ইতিহাসকে। আন্তর্জাতিক ধর্মদর্শন, লৌকিক-অলৌকিক ধর্ম এবং ধর্মতত্ত্ব বিষয়েও তাঁর আগ্রহ প্রবল। ঐশ্বরিক যে কোনো জ্ঞান এবং মানবিক বিজ্ঞান তাঁকে আলোড়িত করে। পাঠাগ্রহের কারণেই তিনি লিখেন মূলত ইতিহাস এবং ধর্মদর্শনের মিশেলে। প্রথাগত ধর্মীয় আবহের বাইরে গিয়ে নির্মাণ করার চেষ্টা করছেন নতুন এক ভাষাভঙ্গি। সাবলীল, প্রাঞ্জল আর সাহসী গদ্য দিয়ে তিনি আমাদের চেনা চিত্রকে দৃশ্যমান করেন নতুন এক উপাখ্যানের আদলে। এটাই তাঁর বিশেষত্ব। জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া...

মন্তব্য

২ টি মন্তব্য করা হয়েছে
জিল্লুর রহমান

জিল্লুর রহমান

১১ নভেম্বর, ২০১৯ - ১৭:২৫ অপরাহ্ন

আরবি ' উম্মি 'শব্দটি আরবি ‘উম্মুন’ ধাতুর সঙ্গে সম্পৃক্ত। উম্মুন শব্দের অর্থ হচ্ছে মা বা কোনো জিনিসের মূল বা আসল। যেমন মক্কা নগরীকে ‘উম্মুল কুরা’ অর্থাৎ দুনিয়ার সব নগরীর উৎসমূল এভাবে সূরা ফাতিহাকে ‘উম্মুল কিতাব’ বা কোরআনের মূল বলা হয়। আরবি সমৃদ্ধ একটি ভাষা। একটি শব্দের অনেক অর্থ হয়ে থাকে। তাই বাক্যের ভাবধারা অনুযায়ী শব্দের অর্থ করতে হয়। অন্যথায় অনুবাদ বা অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। উম্মি শব্দের অর্থ যেমন মূল বা আসল, তেমনি তার অর্থ নিরক্ষর, লেখাপড়াহীন, মূর্খ ইত্যাদিও হয়। কিন্তু সূরা আরাফের ১৫৭, ১৫৮ নং আয়াতে যেখানে নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা উল্লেখ আছে সে সব আয়াতে নিরক্ষর লেখাপড়াহীন অর্থ নেয়াটা মূর্খতারই পরিচায়ক। তাছাড়া পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা। [সুরা বাকারা ২:১২৯। আরবীতে 'ইয়াতলু ' বলা আছে, অর্থাৎ দেখে পড়া। তেলাওয়াত মানে দেখে দেখে পড়া, নবীজি যদি অক্ষর জ্ঞানহীন হতেন, তাহলে পড়তেন কীভাবে? নবীজিকে নিরক্ষর বলা মানে কোরআন শরীফের আয়াতকে অস্বীকার করা। Edward Lanes Lexicon অনুসারে ক্লাসিক আরবী শব্দ “উম্মী”- অর্থ “জেন্টাইল” অথবা যে মুসা (আঃ) এর আইন (তওরাত) সম্পর্কে অবগত নয় (Those who are not familiar with the law of Moses) অথবা যে লিখতে এবং পড়তে জানেনা অর্থাৎ অক্ষর জ্ঞানহীন। কোন ইহুদী যে তার নিজের গ্রন্থ তওরাত সম্পর্কে অবগত নয় তাকেও উম্মী বলা হয়েছে। যেমনঃ And among them are unlettered (উম্মী) ones who do not know the Scripture except in wishful thinking, but they are only assuming (২ঃ৭৮) (এইখানে উম্মী শব্দের অর্থ করা হয়েছে অক্ষরজ্ঞানহীন/ unlettered) “জেন্টাইল” শব্দটা ল্যাটিন “Gentilis” থেকে এসেছে যার দ্বারা কোন গোত্রের সাথে সম্পর্ক যুক্ত বোঝায়। এইখানে এটা দ্বারা নন- ইহুদিদের বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যারা ইহুদিদের গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয় তারাই জেন্টাইল। কোরআনে উম্মী কি অর্থে ব্যবহার হয়েছে অথবা কোরআনে উম্মী শব্দের কোন অর্থ ব্যবহার সঠিক? যদি কোরআনে এই উম্মী শব্দের অর্থ নিরক্ষর ধরে নেওয়া হয়, তবে কোরআনের কিছু আয়াতের কোন অর্থ হয় না। যেমনঃ “যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হয় তবে বলে দাও, "আমি এবং আমার অনুসরণকারীগণ আল্লাহর প্রতি আত্নসমর্পণ করেছি।" আর আহলে কিতাবদের এবং নিরক্ষরদের (উম্মীয়ানা) বলে দাও যে, তোমরাও কি আত্নসমর্পণ করেছ? “(৩:২০) এই আয়াতে আল্লাহ নবীকে বলছেন পূর্ববর্তী কিতাব প্রাপ্তগনের (ইহুদী এবং খৃষ্টান) এবং “ঊম্মীয়ান” দের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে। এখন যদি এই (উম্মীয়ানা) এর অর্থ নিরক্ষর করা হয় তবে তবে এর সামগ্রকি অর্থের ব্যত্যয় ঘটে। কারন তাহলে এই আয়াতের অর্থ দাঁড়ায় তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে যারা কিতাব প্রাপ্ত এবং নিরক্ষর। তাহলে যারা কিতাব প্রাপ্ত নয় এবং লিখতে পড়তে জানে, তাদের কে বাদ দেওয়া হল না? তাদের কাছে কি বার্তা পৌছাতে হবে না? আল্লাহ নিশ্চয় এই রকম কথা বলবে না। বরং এর অর্থ হয় যারা কিতাব প্রাপ্ত এবং যারা কিতাব প্রাপ্ত নয় তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া অর্থাৎ সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এইখানে উম্মী শব্দের অর্থ “জেন্টাইল” বেশি অর্থবোধক “তিনিই নিরক্ষরদের (ঊম্মীয়ান) মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ” (৬২:২) এখানেও উম্মী শব্দের অর্থ নিরক্ষর করলে, অর্থ বিকৃতি ঘটে। যদি এই শব্দের অর্থ নিরক্ষর করা হয়, তবে যা অর্থ দাড়য় তা হচ্ছে আল্লাহ বলতে চাচ্ছেন আল্লাহ নিরক্ষর মধ্য থেকে রাসুল প্রেরন করেছেন। আরবরা সবাই নিরক্ষর ছিলনা, এমনকি কোরাইশ বংশের সবাই নিরক্ষর ছিল না। তাহলে আল্লাহ কিভাবে সাধারন ভাবে আরবদেরকে অথবা কোরাইশদেরকে নিরক্ষর বলতে পারে? এর সঠিক অর্থ যদি জেন্টাইল হয় তবে এইখানে অর্থ পরিষ্কার, অর্থাৎ আল্লাহ অ-ইহুদী/ যারা পূর্ববর্তী কিতাব সম্পর্কে ধারনা রাখেনা তাদের মধ্য থেকে একজন রাসুল প্রেরন করেছেন। আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
Pauloffiz

Pauloffiz

২৬ নভেম্বর, ২০১৯ - ১৬:৪৩ অপরাহ্ন

<a href="https://elimite2.com/">buy elimite cream</a>

Maryoffiz

Maryoffiz

০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ - ১৫:৫৩ অপরাহ্ন

<a href="https://elimite2.com/">elimite cream</a>

Pauloffiz

Pauloffiz

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ - ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন

<a href="https://elimite2.com/">how much does permethrin cost</a>

Markoffiz

Markoffiz

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ - ০১:০৮ পূর্বাহ্ন

<a href="https://elimite2.com/">elimite cream</a>

Lisaoffiz

Lisaoffiz

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ - ১৯:২২ অপরাহ্ন

<a href="http://elimite2.com/">cheap elimite</a>

Maryoffiz

Maryoffiz

২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ - ২৩:২৪ অপরাহ্ন

<a href="https://elimite2.com/">elimite cream directions</a>

rhahiNag

rhahiNag

১২ জানুয়ারী, ২০২০ - ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

cbd oil cbd oil at walmart <a href="https://cbdoilnumber1.com">cbd oil cbd oil benefits </a> cbd oil charlotte's web cbd oil cbd oil cbd store cbd oil from hemp <a href=https://cbdoilnumber1.com>cbd oil cbd oil for sleep </a> cbd oil cbd capsules cbd oil online amazon

CharlesStymn

CharlesStymn

০৩ অক্টোবর, ২০২০ - ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

<a href="https://avto-problem.ru/sweatpants/">shoes</a>

RobertThymn

RobertThymn

১৪ নভেম্বর, ২০২০ - ১২:৩৯ অপরাহ্ন

erectile dysfunction <a href=http://erectiledysfunctionpillscvs.com/>is erectile dysfunction real</a> best erectile dysfunction meds <a href="http://erectiledysfunctionpillscvs.com/">is erectile dysfunction common in older men</a> erectile vacuum pump

জিল্লুর রহমান

জিল্লুর রহমান

১১ নভেম্বর, ২০১৯ - ১৭:২৭ অপরাহ্ন

আরবি ' উম্মি 'শব্দটি আরবি ‘উম্মুন’ ধাতুর সঙ্গে সম্পৃক্ত। উম্মুন শব্দের অর্থ হচ্ছে মা বা কোনো জিনিসের মূল বা আসল। যেমন মক্কা নগরীকে ‘উম্মুল কুরা’ অর্থাৎ দুনিয়ার সব নগরীর উৎসমূল এভাবে সূরা ফাতিহাকে ‘উম্মুল কিতাব’ বা কোরআনের মূল বলা হয়। আরবি সমৃদ্ধ একটি ভাষা। একটি শব্দের অনেক অর্থ হয়ে থাকে। তাই বাক্যের ভাবধারা অনুযায়ী শব্দের অর্থ করতে হয়। অন্যথায় অনুবাদ বা অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। উম্মি শব্দের অর্থ যেমন মূল বা আসল, তেমনি তার অর্থ নিরক্ষর, লেখাপড়াহীন, মূর্খ ইত্যাদিও হয়। কিন্তু সূরা আরাফের ১৫৭, ১৫৮ নং আয়াতে যেখানে নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা উল্লেখ আছে সে সব আয়াতে নিরক্ষর লেখাপড়াহীন অর্থ নেয়াটা মূর্খতারই পরিচায়ক। তাছাড়া পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা। [সুরা বাকারা ২:১২৯। আরবীতে 'ইয়াতলু ' বলা আছে, অর্থাৎ দেখে পড়া। তেলাওয়াত মানে দেখে দেখে পড়া, নবীজি যদি অক্ষর জ্ঞানহীন হতেন, তাহলে পড়তেন কীভাবে? নবীজিকে নিরক্ষর বলা মানে কোরআন শরীফের আয়াতকে অস্বীকার করা। Edward Lanes Lexicon অনুসারে ক্লাসিক আরবী শব্দ “উম্মী”- অর্থ “জেন্টাইল” অথবা যে মুসা (আঃ) এর আইন (তওরাত) সম্পর্কে অবগত নয় (Those who are not familiar with the law of Moses) অথবা যে লিখতে এবং পড়তে জানেনা অর্থাৎ অক্ষর জ্ঞানহীন। কোন ইহুদী যে তার নিজের গ্রন্থ তওরাত সম্পর্কে অবগত নয় তাকেও উম্মী বলা হয়েছে। যেমনঃ And among them are unlettered (উম্মী) ones who do not know the Scripture except in wishful thinking, but they are only assuming (২ঃ৭৮) (এইখানে উম্মী শব্দের অর্থ করা হয়েছে অক্ষরজ্ঞানহীন/ unlettered) “জেন্টাইল” শব্দটা ল্যাটিন “Gentilis” থেকে এসেছে যার দ্বারা কোন গোত্রের সাথে সম্পর্ক যুক্ত বোঝায়। এইখানে এটা দ্বারা নন- ইহুদিদের বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যারা ইহুদিদের গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয় তারাই জেন্টাইল। কোরআনে উম্মী কি অর্থে ব্যবহার হয়েছে অথবা কোরআনে উম্মী শব্দের কোন অর্থ ব্যবহার সঠিক? যদি কোরআনে এই উম্মী শব্দের অর্থ নিরক্ষর ধরে নেওয়া হয়, তবে কোরআনের কিছু আয়াতের কোন অর্থ হয় না। যেমনঃ “যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হয় তবে বলে দাও, "আমি এবং আমার অনুসরণকারীগণ আল্লাহর প্রতি আত্নসমর্পণ করেছি।" আর আহলে কিতাবদের এবং নিরক্ষরদের (উম্মীয়ানা) বলে দাও যে, তোমরাও কি আত্নসমর্পণ করেছ? “(৩:২০) এই আয়াতে আল্লাহ নবীকে বলছেন পূর্ববর্তী কিতাব প্রাপ্তগনের (ইহুদী এবং খৃষ্টান) এবং “ঊম্মীয়ান” দের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে। এখন যদি এই (উম্মীয়ানা) এর অর্থ নিরক্ষর করা হয় তবে তবে এর সামগ্রকি অর্থের ব্যত্যয় ঘটে। কারন তাহলে এই আয়াতের অর্থ দাঁড়ায় তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে যারা কিতাব প্রাপ্ত এবং নিরক্ষর। তাহলে যারা কিতাব প্রাপ্ত নয় এবং লিখতে পড়তে জানে, তাদের কে বাদ দেওয়া হল না? তাদের কাছে কি বার্তা পৌছাতে হবে না? আল্লাহ নিশ্চয় এই রকম কথা বলবে না। বরং এর অর্থ হয় যারা কিতাব প্রাপ্ত এবং যারা কিতাব প্রাপ্ত নয় তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া অর্থাৎ সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এইখানে উম্মী শব্দের অর্থ “জেন্টাইল” বেশি অর্থবোধক “তিনিই নিরক্ষরদের (ঊম্মীয়ান) মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ” (৬২:২) এখানেও উম্মী শব্দের অর্থ নিরক্ষর করলে, অর্থ বিকৃতি ঘটে। যদি এই শব্দের অর্থ নিরক্ষর করা হয়, তবে যা অর্থ দাড়য় তা হচ্ছে আল্লাহ বলতে চাচ্ছেন আল্লাহ নিরক্ষর মধ্য থেকে রাসুল প্রেরন করেছেন। আরবরা সবাই নিরক্ষর ছিলনা, এমনকি কোরাইশ বংশের সবাই নিরক্ষর ছিল না। তাহলে আল্লাহ কিভাবে সাধারন ভাবে আরবদেরকে অথবা কোরাইশদেরকে নিরক্ষর বলতে পারে? এর সঠিক অর্থ যদি জেন্টাইল হয় তবে এইখানে অর্থ পরিষ্কার, অর্থাৎ আল্লাহ অ-ইহুদী/ যারা পূর্ববর্তী কিতাব সম্পর্কে ধারনা রাখেনা তাদের মধ্য থেকে একজন রাসুল প্রেরন করেছেন। আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...