সর্বোত্তম সমাধান : ধৈর্য ধারণ করা

কুরআনের প্রায় দুশো জায়গায় সরাসরিভাবে ধৈর্যধারণ করতে বলা হয়েছে। আরও অসংখ্য স্থানে পরোক্ষভাবে এ কথাটির ওপরই গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যে আয়াতগুলো সরাসরি ধৈর্যের সাথে সম্পৃক্ত, সেগুলোতে খুব স্পষ্টভাবেই মূলবিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে। যেমন ধরুন, মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন—

আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৫
এবং তোমার ওপর যে বিপদ-আপদ আসে তাতে ধৈর্যধারণ করো। সুরা লুকমান, আয়াত : ১৭
এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়। সুরা আসর, আয়াত : ৩
এবং তাদের নির্যাতন উপেক্ষা করো আর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। সুরা আহযাব, আয়াত : ৪৮


উপরোল্লেখিত আয়াতগুলোতে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সরাসরিভাবে ধৈর্যধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি আয়াতগুলোর অধিকাংশেও ধৈর্যের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুরআনের শুরুই কিন্তু হয়েছে, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’ কথাটি দিয়ে। এর অর্থ হলো—মহান আল্লাহ তাআলা চান মানুষ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া প্রকাশ করুক।


সবচেয়ে বড়কথা হচ্ছে, আমরা জানি, এ পৃথিবী অনেকধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিপূর্ণ। আর কেউই সেসব থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারে না। কুরআনের ভাষ্যমতে—

মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে। সুরা বালাদ, আয়াত : ৪


সত্যি বলতে কারও পক্ষেই নিজের জন্য সম্পূর্ণভাবে সুখের জীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সুখেই যখন কেউ জীবন যাপন করতে পারবে না, তাহলে একজন মানুষ কীভাবে আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে আর তার গুণগান গাইবে? এমনটা করার একমাত্র পন্থা হলো ধৈর্যধারণ করা। কেবল তখনই একজন মানুষ দুনিয়াবি সমস্যাগুলো ধৈর্য ধরে মোকাবিলা করতে পারে, যখন সে সমস্ত বিপদ-আপদের মোকাবিলায় ধৈর্যের হাতিয়ার গ্রহণ করে। এবং মনখুলে আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। একারণেই কুরআনে ধৈর্যের সাথে কৃতজ্ঞতাকে এক করে প্রকাশ করা হয়েছে।


ধৈর্য মানুষকে যেকোনো সমস্যার ইতিবাচক ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে সক্ষম করে তুলে। যেকোনো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার পর যখন কেউ ক্রোধে দিশেহারা হয়ে যায়, তখন সে ঠিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সামনে কোন পদক্ষেপ নেয়া উচিত তা সম্পর্কে ঠান্ডা মাথায় ভাবতে পারে না। কিন্তু যখন সে ধৈর্য-সহ্যের মাধ্যমে কাজ করে, তখন সে আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে বিচার করে পদক্ষেপ নেয়।


ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কেউ আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে, তখন তার পতন নিশ্চিত হয়ে ওঠে। আর যখন কেউ ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সফল হয়। নিঃসন্দেহে, ধৈর্যই হচ্ছে সব সমস্যার সবচেয়ে উত্তম সমাধান।

২৪০ বার পঠিত

অনুবাদক পরিচিতি

নীড়ে ফেরা পাখিটার এখনও অনেককিছুই অগোছালো, তাও চেষ্টা করছি বারবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স করেছি। নিজেকে ইসলামিক অনলাইন মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। দ্বীনের খেদমত হিসেবে বেছে নিয়েছি ইসলামি কন্টেন্টের লেখা অনুবাদ করার কাজটিকে। আল্লাহ যেন আমার কাজগুলো কবুল করে নেন আর এই ওসিলায় এই আমাকে ক্ষমা করে দেন।

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...